বিশ্বের শীর্ষ অপরিশোধিত জ্বালানি তেল রফতানিকারক দেশ সৌদি আরব। দেশটি এশিয়ার ক্রেতাদের জন্য পণ্যটির দাম নামিয়ে এনেছে চার বছরের সর্বনিম্নে। বিশ্লেষকরা বলছেন, ওপেক প্লাসের উত্তোলন বাড়ানোর কৌশল অনুসরণ করছে সৌদি আরব। এর অংশ হিসেবে মূল্যহ্রাসের মাধ্যমে বাজারে নিজেদের হিস্যা পুনরুদ্ধার করতে চাইছে দেশটি। খবর রয়টার্স।
সৌদি রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি তেল কোম্পানি সৌদি আরামকো মে মাসে সরবরাহের জন্য আরব লাইট ক্রুডের অফিশিয়াল সেলিং প্রাইস (ওএসপি) ২ ডলার ৩০ সেন্ট কমিয়েছে। তবে তা এখনো ওমান ও দুবাই ক্রুডের তুলনায় ১ ডলার ২০ সেন্ট বেশি। আরামকোর প্রকাশিত নথি থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।
আরামকো এশিয়ায় সরবরাহের জন্য টানা দ্বিতীয় মাসের মতো জ্বালানি তেলের দাম কমিয়েছে। গত দুই বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দাম কমিয়েছে সৌদি আরব।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার আটটি ওপেক প্লাসভুক্ত দেশ উত্তোলন হ্রাসের পরিকল্পনা প্রত্যাহার করে মে মাস থেকে দৈনিক ৪ লাখ ১১ হাজার ব্যারেল উত্তোলন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা বৈশ্বিক সরবরাহের প্রায় দশমিক ৪ শতাংশ।
আর্থিক পরিষেবা প্রতিষ্ঠান ইনভেস্টেকের হেড অব কমোডিটিজ ক্যালাম ম্যাকফারসন বলেন, ‘সৌদি আরব পুনরায় ২০১৫ ও ২০১৬ সালের মতো বাজার দখল কৌশলের পথে ফিরে যাচ্ছে—বর্তমান পরিস্থিতি এমন আশঙ্কা তৈরি করছে।’
উল্লেখ্য, ২০২৫ ও ২০২৬ সালের দিকে ওপেকভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে জ্বালানি তেল বেশি বিক্রির প্রতিযোগিতা তৈরি হয়েছিল। সে সময় দাম তুলনামূলক অনেক কমে গিয়েছিল।
ম্যাকফারসন আরো বলেন, ‘তবে পরিস্থিতি এখনো এতটা গুরুতর মনে হচ্ছে না। ইরাক ও কাজাখস্তানের মতো উত্তোলনকারী দেশগুলোর প্রতি প্রতিক্রিয়া হিসেবেও এমন সিদ্ধান্ত নেয়া হতে পারে। এ দেশগুলো প্রায় প্রতি মাসেই নির্ধারিত কোটার তুলনায় বেশি জ্বালানি তেল উত্তোলন করে।
আরামকো আরব লাইট ছাড়া এশিয়ায় মে মাসে সরবরাহের জন্য অন্যান্য গ্রেডের দামও প্রতি ব্যারেলে ২ ডলার ৩০ সেন্ট কমিয়েছে। এর আগে রয়টার্সের এক জরিপে বিশ্লেষকরা জানিয়েছিলেন, মার্চে বড় দরপতনের কারণে আরব লাইটের দাম ১ ডলার ৮০ সেন্ট থেকে ২ ডলার কমানো হতে পারে।
ওপেক প্লাসের উত্তোলন বৃদ্ধির ঘোষণা ও বিশ্বব্যাপী বাণিজ্যযুদ্ধের উত্তেজনার কারণে গত সপ্তাহে বিশ্বব্যাপী অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম প্রায় ১১ শতাংশ কমে যায়, যা তিন বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।